নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের টেকনাফে দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দেওয়ায় ঠিকাদারকে মারধর, হত্যাচেষ্টা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে অভিযুক্ত করে টেকনাফ মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন ঠিকাদার আবু বকর ছিদ্দিক।
গত ২৪ অক্টোবর টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালী এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের মাঠে এ ঘটনা ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী আবু বকর ছিদ্দিক কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিককুল এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে আমজাদ হোসেন খোকন ছাড়াও জিয়াউর রহমান, জিল্লুর রহমান, সাকের উল্লাহ, সাইফুল্লাহ ও কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উত্তর শীলখালী এলাকায় একটি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পান আবু বকর ছিদ্দিক। ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর তিনি কাজ শুরু করেন। তাঁর অভিযোগ, কাজ শুরুর পর থেকেই আমজাদ হোসেন খোকনের নেতৃত্বে কয়েকজন নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে ওই এলাকায় ঠিকাদারি কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ অক্টোবর আশ্রয়কেন্দ্রটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ নির্ধারিত ছিল। সকাল ১০টার দিকে ঠিকাদার তাঁর সহযোগী নুরুল আলম হেলালীকে নিয়ে প্রকল্প এলাকায় যান। সেখানে উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাকির, জেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে আমজাদ হোসেন খোকন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বলেন বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার। কাজ বন্ধের কারণ জানতে চাইলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং আগের দাবিকৃত টাকা না দিলে নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয় বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ঠিকাদারকে অপহরণ করে পাহাড়ে নিয়ে হত্যা ও লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। পরে খোকনের ফোন পেয়ে তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঠিকাদারের অভিযোগ, একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেন এবং খোকন তাঁর গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় শ্রমিকদের মজুরির জন্য তাঁর পকেটে রাখা ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান।
পরে সহকর্মীরা আহত ঠিকাদারকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেছেন অভিযোগকারী।
ঠিকাদারের আরও অভিযোগ, এর আগেও তাঁকে কয়েকবার আটকে রেখে হয়রানি করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে সরকারি প্রকল্পের নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য: এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে আমজাদ হোসেন খোকনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য: টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
